নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বাড়তে পারে শীতের দাপট, ৭ ডিগ্রির ঘরে তাপমাত্রা

কনকনে শীতের অনুভূতি কিছুটা কমলেও এখনো ৭ ডিগ্রির ঘরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত থাকছে কুয়াশার দাপট। এই অবস্থার মধ্যেই নতুন করে দুঃসংবাদ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নাগাদ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে বাড়তে পারে শীতের অনুভূতি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।

এদিকে রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা খানিকটা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তর-পশ্চিম বা উত্তর দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৯ শতাংশ।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বর্তমানে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী দু’দিনও দেশের কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের এমন দাপট অব্যাহত থাকতে পারে।

এই আবহাওয়াবিদ আরও জানিয়েছেন, রোববার ও সোমবার (১১-১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। তবে এই সময়ে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে। এরমধ্যে রোববার ও সোমবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে প্রথম দিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও পরদিন সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পাশাপাশি বুধ ও বৃহস্পতিবারও (১৪-১৫ জানুয়ারি) সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে এই তিন দিনে সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পাশাপাশি কুয়াশার দাপট একই রকম থাকতে পারে।

আর সারাদেশের রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

পঞ্চগড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৭.৭ ডিগ্রি
পঞ্চগড়ে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে টানা শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, শিশু ও বয়স্করা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

শৈত্যপ্রবাহে কুড়িগ্রামে জনজীবন বিপর্যস্ত
কুড়িগ্রামে একদিনের বিরতি দিয়ে ফের শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। উত্তর থেকে আসা কনকনে হিমেল হাওয়ার দাপটে জেলাজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত জেঁকে বসেছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে, ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, আজ সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন