প্রকাশিত: ২১ ঘন্টা আগে, ১১:৫৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বিশেষ প্রতিনিধি
মানুষ মরে যায়, কিন্তু তার রেখে যাওয়া মহৎ কর্ম আর স্বপ্নগুলো বেঁচে থাকে অনন্তকাল। তেমনই এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন মতিউর রহমান লাল্টু। কিছুদিন আগে তিনি হারিয়েছেন তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী নিলুফার খানম এ্যানী-কে। স্ত্রীর মৃত্যুর শোককে পাথর না বানিয়ে, তাঁর স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্বামী মতিউর রহমান লাল্টু। প্রয়াত এ্যানী’র প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে এবং তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো একটি অত্যাধুনিক “মোবাইল হার্ট অ্যান্ড হেলথ ক্যাম্প”। নিলুফার খানম এ্যানী আজীবন তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষকে চিকিৎসা এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছেন। অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তাঁর আনন্দ। এবার তাঁর সেই আজীবনের স্বপ্ন ডানা মেলল এক বিশাল বাসের ভেতর। এই বিশেষায়িত বাসটি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব, দুস্থ ও অবহেলিত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা।
এটি কেবল একটি গাড়ি নয়, বরং চাকার ওপর গড়ে ওঠা একটি আধুনিক হাসপাতাল। প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা যাতে শহরের মতো চিকিৎসাসেবা পান, তার সব সুবিধাই যুক্ত করা হয়েছে এতে। এই অত্যাধুনিক গাড়িটিতে ডাক্তার ও নার্সদের থাকার ব্যবস্থা এবং টয়লেট সুবিধাসহ রয়েছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক রোগ নির্ণয়ের জন্য এতে ECG, ECHO, আল্ট্রাসাউন্ড, ডিজিটাল এক্স-রে এবং একটি সুসজ্জিত প্যাথলজি ল্যাবসহ রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের উন্নত চিকিৎসা সুবিধা সংযোজিত আছে। এর মাধ্যমে এ্যানী’র স্বপ্ন পূরণ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সবাই মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন।
নিলুফার খানম এ্যানী’র এই মানবিক স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে ‘Nilufer Khanom Anee Foundation’ এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (BADAS)। আজ এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে এই উচ্চমানের বিশেষায়িত গাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও ন্যাশনাল প্রফেসর ডক্টর এ. কে. আজাদ খান। গাড়িটি হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রয়াত এ্যানী’র মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ উন্মুক্ত হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর ডক্টর এ. কে. আজাদ খান, সমাজকর্মী এ্যানীর মেয়ে লায়লা এবং মরহুমার স্বামী মতিউর রহমান লাল্টুসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে মতিউর রহমান লাল্টুর এই নানামুখী উদ্যোগ সমাজের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার এই মানবিক গল্পটি শুধু এ্যানী’র স্মৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখবে না, বরং দেশের হাজারো অসহায় মানুষের বুকে বেঁচে থাকার নতুন আশা জোগাবে। এই মহৎ উদ্যোগের সফলতা কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে আন্তরিক দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য সমাজসেবক ও বিশুদ্ধ রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব মতিউর রহমান লালটু ও তাঁর স্ত্রী নিলুফার খানম এ্যানী দীর্ঘদিন ধরে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের উদ্যোগে দেশব্যাপী হার্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্ত্রী বিয়োগের পর মতিউর রহমান লালটু ও তাঁদের মেয়ে লায়লার উদ্যোগে নিলুফার খানম এ্যানীর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেছেন তাঁরা।
মন্তব্য করুন