প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। প্রচণ্ড শীতের কারণে সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়াতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
ঝরঝর ঝরছে শিশির। কুয়াশায় অনেক কাছের জিনিসও চোখে দেখা যায় না। মেঘলা আকাশ। দেখা নেই সূর্যের। ঘন কুয়াশার সাথে উত্তর থেকে বয়ে আসা হিমশীতল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। গত দুই সপ্তাহ থেকে হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু মানুষ।
নওগাঁ-চুয়াডাঙ্গায় দিনের তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬ ডিগ্রির ঘরে। আর রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা নেমেছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আজ বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার। দ্বীপজেলা ভোলায় সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এ মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এর আগে রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোণা, মৌলভীবাজার, লক্ষ্মীপুর এবং কুমিল্লা জেলাসহ রাজশাহী, রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। সঙ্গে ঠাণ্ডা বাতাস থাকায় শীতের প্রকোপ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। নেমে এসেছে তীব্র শীতের ভয়। খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। সাধারণ মানুষ শীতের কারণে প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই।
এদিকে আজ ভোর থেকেই উত্তরের জেলাগুলোতে কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। দশ হাত সীমানার মধ্যেও কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না। সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। শহরে লোক ও যানবাহন চলাচল অনেক কম। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতার্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা কনকনে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য অনেকেই বাড়ির আঙিনা, ফুটপাত ও চায়ের দোকানের চুলায় বসে আগুন পোহাচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকায় বুধবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
এদিকে বুধবার সকালে নওগাঁয় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই নওগাঁ জেলার আকাশ ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যায় এই জেলায়।
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নওগাঁ বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে এবং উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে নামছে। বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা জেলায় এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই হিসেবে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে টানা দুদিন বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আলতাফ হোসেন জানান, এ অবস্থা আরও দুই থেকে তিন দিন থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেখলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা সুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে এবং সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সাথে বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সাথে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে এবং সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মন্তব্য করুন