ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০ মার্চ, ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে বাদলা রোগে আক্রান্ত হয়ে হু হু করে মরছে গরু

ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মশালডাঙ্গী ও কলোনী গ্রামে বাদলা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন মরছে গরু।কৃষকদের আয়ের একমাত্র গরু মারা যাওয়ায় ২ গ্রামের অসংখ্য মানুষ এখন নিংস্ব হবার উপক্রম হয়েছে।


মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য  রফিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক ৫টি গরু পালন করলেও  গত ৩ দিনে  ২টি গরু মারা গেছে। বাকি ৩টি গরু টিকবে কি না সেই  দুশ্চিন্তায় এখন পুরো পরিবার।

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মশালডাঙ্গী গ্রামে রফিকুল ইসলামের মত আরও কয়েকশ কৃষক এমন দুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। অজ্ঞাত রোগে সীমান্ত ঘেষা মশালডাঙ্গী গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী ৪নং কলোনীতে গত দুই মাসে ২০ জন কৃষকের অর্ধশত গরু মারা গেছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে মারা গেছে ১৯টি।

সরেজমিনে ওই ২ গ্রামে গিয়ে কৃষকদের হত্যাশার কথা জানা যায়। প্রতিদিন অজ্ঞাত এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে গরু। আক্রান্ত হওয়ার ৬-১০ ঘন্টার মধ্যে মারা যাচ্ছে। রোগ নির্ণয় না করতে পারার কারণে কোন ধরণের চিকিৎসা দেওয়ার পূর্বেই মারা যাচ্ছে গবাদী পশু।

রফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে গরুর শরীর গরম হয়ে যায়। যেটাকে জ্বর বলি আমরা। এরপরে পেট ফুলে গিয়ে খাওয়া দাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমন করে ৬-১০ ঘন্টার মধ্যে মারা যায় দুটো গরু । আশপাশে সবার গরু মারা যাচ্ছে, অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সবাই দুশ্চিন্তায় আছি।

আইয়ুব আলী নামে অপর একজন কৃষক জানান, সীমান্ত ঘেঁষা এই দুটি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ গরু পালন ও কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল। গরু বিক্রি করে কৃষি কাজ, ছেলে মেয়ের পড়াশোনা, বিয়ে ইত্যাদি সকল খরচ বহন করি। সীমান্তে চারণ ভূমি থাকায় গরু পালনে বেশ সুবিধা রয়েছে আমাদের। দুই গ্রামে অন্তত: দেড় হাজার গরু পালন করছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার ও শনিবারে ৩টি গরু মারা গেছে মামুন নামে এক কৃষকের।

তিনি জানান, রাতে গোয়াল ঘরে সুস্থ গরু ঢুকিয়েছে। সকালে গরু উঠে দাড়াতে পারে না। ডাক্তার নিয়ে এসে ইনজেকশন, স্যালাইন ও এসিডের ঔষধ খাওয়ালাম। সন্ধ্যার আগেই মারা গেল ১টি গরু। অন্যটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টায় মারা গেলো। এটা চলতে থাকলে এই এলাকার মানুষ নি:স্ব হয়ে যাবে।

বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম জানান, সীমান্তঘেষা দুই গ্রামের মানুষ খুব আতঙ্কে রয়েছে । এই ভাইরাস ভারত থেকে এসেছে কিনা এটা সনাক্ত এবং দ্রুত গবাদি পশুগুলোর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রাণীসম্পদ কার্যালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাসিরুল ইসলাম জানান, মৃত গরুর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আমরা ওই দুটি গ্রামের কয়েকটি আক্রান্ত গরু দেখেছি। এগুলো বাদলা রোগে আক্রান্ত। মঙ্গলবার শতাধিক গরুকে এ রোগের টিকা দিয়েছি। দুটি গ্রামের সকল গরুকে টিকার আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।

মন্তব্য করুন