প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে পুঠিয়ায় আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

উৎপল কুমার সরকার, ব্যুরো চিফ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি আদিবাসী পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, বসতভিটার জমি দখলের চেষ্টা, মাছ ধরে নেওয়া এবং গাছপালা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১২ জুন সকাল প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার ধোগ্রাকুল মৌজায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী রাসন্তি জানান, তিনি তার পৈতৃক জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু বিরোধপূর্ণ পক্ষের লোকজন এসে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আরেক ভুক্তভোগী কাকলি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য নির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিপক্ষ আলোচনায় না এসে তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, তারা ওয়ারিশ সহর উদ্দিনের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন এবং এ সংক্রান্ত দলিলও তাদের কাছে রয়েছে।
প্রতিবেশী বাসন্তী জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল লোক এসে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী বাবলু সরকার বলেন, হামলার সময় তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পুঠিয়া থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগে একই বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়।
মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধোগ্রাকুল মৌজার জে.এল. নং ২০৩-এর হাল দাগ নং ৩১৭১ ও ৩১৫৭-এর মোট ৩৭ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারী সেলিনা সরকার দাবি করেন, তার দাদা শ্রী আকালু সরকার এবং পরবর্তীতে তার পিতা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে জমিটি ভোগদখলে আছেন। তবে অভিযুক্তরা পূর্বে বিক্রয় করা জমি নিজেদের দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ জুন সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে জমিতে প্রবেশ করে সেখানে নির্মিত বসতবাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় ঘরে থাকা প্রায় এক লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং আনুমানিক ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযুক্ত মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলুন, এরপর এ বিষয়ে কথা বলা যাবে।” তবে বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়টি তার স্ত্রী স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফরিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
লিয়াকত সালমান বলেন, “ঘটনার বিষয়টি জেনে দুঃখিত হয়েছি। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি

মন্তব্য করুন