প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পলাশ চন্দ্র দাস
বাজেট ২০২৬-২৭, স্টিল শিল্পের উপর অতিরিক্ত ব্যয়চাপ, শিল্পের টিকে থাকা এবং উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রযোজনীয়তা প্রয়োজনীয়তার কথা বলে সংগঠনটি তাদের দাবির কথা ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ)-এর পক্ষ থেকে গতকাল বিকেল ৪ টায় সংগঠনটি জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ -এ স্টিল শিল্পের উপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও করের প্রভাব সম্পর্কে আমরা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় জিনাতে পাঠ করছি। আমরা লক্ষ্য করছি যে, এমন সময়ে শিল্পটির উপর নতুন করে ভ্যাট, শুল্ক ও করের অতিরিক্ত বোঝা আরোপ করা হয়েছে যখন দেশের স্টিল শিল্প বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন ব্যবসায়িক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।
বর্তমানে দেশে স্টিলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন, অথচ শিল্পটির স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। ফলে অধিকাংশ কারখানা বর্তমানে ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র আর্থিক চাপে কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আরো বলেন - আমরা সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছি, বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন কর-শুল্ক কাঠামোর সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি মেট্রিক টনে সরাসরি উৎপাদন কয় প্রায় ৫, ০০০ থেকে ৬, ০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে বাজারে চাহিদা কম থাকায় এবং অধিকাংশ মিল ৫০ শতাংশেরও কম সক্ষমতায় পরিচালিত হওয়ায় ওভারহেড ব্যয়, ঝ্যাংক সুদ ব্যয় ও স্থায়ী ব্যয়ের চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতি মেট্রিক টনে অতিরিক্ত ৫, ০০০ থেকে ৬, ০০০ টাকা পরোক্ষ ব্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুয় মিলিয়ে স্টিল শিল্পের উপর মোট অতিরিক্ত ব্যয় প্রতি মেট্রিক টনে আনুমানিক ১১, ০০০ থেকে ১২, ০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা আরো বলেন,
আমরা বিশ্বাস করি, রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো উৎপাদন বৃদ্ধি, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডের গতি ত্বরান্বিত করা।
আমরা জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দকে স্বাগত জানাই। তবে এই বরাদ্দের প্রকৃত সুফল তখনই আসবে, যখন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সরকারের নিকট বিনীত কিন্তু জোরালোভাবে নিম্নোক্ত দাবিসমূহ বিবেচনার আহ্বান জানান -
১। স্টিল শিল্পের উপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ভ্যাট, শুল্ক ও কর পুনর্বিবেচনাপূর্বক প্রত্যাহার করতে হবে।
২। বিক্রয় পর্যায়ে নির্ধারিত মূসক (ভ্যাট) এবং স্থানীয় ক্র্যাপের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে। ৩। ফেরো-অ্যালয়, রিফ্যাক্টরি সামগ্রী, স্পেয়ার পার্টস এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের উপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও শুল্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ৪। টার্নওভার ট্যাক্স ১ শতাংশের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় ০.৬ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। ৫। উন্নয়ন বাজেট দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিল্পখাতে পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে।
পরিশেষে তারা বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের শিল্পখাতকে শক্তিশালী করেই সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশের স্টিল শিল্পকে টিকিয়ে রাখা মানে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করা সম্ভব। তাই, তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল মিনতি জানায় যেন তাদের যৌক্তিক দাবি গুলো সার্বিকভাবে অবশ্যই বিবেচনা করা হয় এবং সকল সমস্যার সঠিক সমাধান করে চির কৃতজ্ঞতার নাগপাশে আবদ্ধ হন।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে, উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রেসিডেন্ট, বিএসএমএ; ডঃ সুমন চৌধুরী,
সেক্রেটারি জেনারেল, বিএসএমএ ; মোঃ আব্দুস সালাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিএসএমএ; মারুফ মহসিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিএসএমএ; ফুরকান মোহাম্মদ এন হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিএসএমএ; শেখ ফজলুর রহমান বকুল, চেয়ারম্যান, বিএসএমওএ; মোঃ শাহজাহান, সেক্রেটারি জেনারেল, বিএসএমওএ; আলমাস শিমুল, প্রতিনিধি, জিপিএইচ ইস্পাত লিঃ; সৌমিত্র কুমার মুৎসুদ্দি, জয়েন্ট সেক্রেটারি, বিএসএমএ; হুমায়ুন কবীর, প্রতিনিধি, রহিম স্টিল মিলস কোঃ (প্রাঃ) লিঃ; মোঃ মনিরুজ্জামান, প্রতিনিধি, এলিট আয়রন এন্ড স্টিল ইন্ডাঃ লিঃ; মোহাম্মদ হোসেন বাবুল, প্রতিনিধি, সীমা অটোঃ রি-রোলিং মিলস লিঃ। তাছাড়াও, সংগঠনের আরো অনেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন