প্রকাশিত: ১৮ ঘন্টা আগে, ১০:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিতে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ

ব্যুরো চিফ, রাজশাহী 
স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সাশ্রয়ী মূল্যের আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা। তারা বলেন, ভোজ্যতেলের গুণগত মান বজায় রাখতে উপযুক্ত প্যাকেজিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কম খরচে কার্যকর প্যাকেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজশাহী নগরীর নানকিং দরবার হলে অনুষ্ঠিত “স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল সহজলভ্যকরণে স্বল্পমূল্যের প্যাকেজিং প্রচলন” শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
বক্তারা জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোজ্যতেল খোলা অবস্থায় বিক্রি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব তেল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত পাত্র ফুড-গ্রেড নয়। ফলে ধুলোবালি, কীটপতঙ্গ ও বিভিন্ন ধরনের দূষক সহজেই তেলের সঙ্গে মিশে যায়। এতে ভোক্তারা অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করছেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে। সাশ্রয়ী মূল্যের নিরাপদ প্যাকেজিং প্রযুক্তি চালু হলে নিম্ন আয়ের মানুষেরাও নিরাপদ খাদ্যের সুবিধা পাবেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহ. ইফতিখার। তিনি বলেন, আলো ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং ভোজ্যতেলে অক্সিডেশন বৃদ্ধি করে পার-অক্সাইড ভ্যালু বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে তেলের রং, স্বাদ ও গন্ধ পরিবর্তিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আলো-প্রতিরোধী প্যাকেজিং ব্যবহার করলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে ভোজ্যতেলের গুণগত মান রক্ষায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আলো ও অক্সিজেনের সংস্পর্শ থেকে তেলকে সুরক্ষিত রাখতে সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।
সেমিনারের সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, খোলা তেলের অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিরাপদ প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
এ সময় বক্তব্য দেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস. আই. এম. রেজাউল করিম, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রাজশাহীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী।
বক্তারা বলেন, সরকার, উৎপাদক ও ভোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ভোজ্যতেল নিশ্চিত করা সম্ভব। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সাশ্রয়ী মূল্যের উন্নত প্যাকেজিং ব্যবস্থা চালু হলে ভোজ্যতেলের অপচয় কমবে, স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী নিরাপদ ও মানসম্মত ভোজ্যতেল ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

মন্তব্য করুন