প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ষ্টাফ রিপোর্টার
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এর চার খলিফা একজন হলেন মোহাম্মদ নূর-ই খোদা, নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন শাখার চলতি (দায়িত্বে) নিয়োজিত আছেন| রাজউকের এ খলিফা নূর-ই খোদার কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ গড়েছেন কয়েক বছরের ব্যবধানে| বাড়ী. গাড়ী, ফ্ল্যাট নালজমি, কারখানা, দোকান কোন কিছুরই কোন অভাব নেই এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার| এ যেন আলাদীনের চেরাগ পাওয়ার মতো| জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানা গঙ্গাপাড়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের সন্তান নূর ই খোদা| এখন এখন থানার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি| এলাকায় বসবাসের জন্য কয়েকটি ভবন, একাধিক রাইস মিল প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি| ২০০৪ সালের ৩ নভেম্বর সহকারী নগর পরিকল্পনাবিধ হিসেবে রাজউকের যোগদান করেন তিনি| দীর্ঘ ২১ বছর চাকুরী করে তিনি কামিয়েছেন কয়েকশ কোটি টাকা| রাজউক কর্মকর্তা কর্মচারীরা তাকে রাজউকের প্রধান খলিফা হিসেবে চিনেন| ড্যাবের প্ল্যানপাস ছাড়পত্র প্রদানের একমাত্র ক্ষমতা তার হাতে| তার স্বাক্ষর ছাড়া ড্যাবের কোন প্ল্যান পাস করা সম্ভব না| ভবনের তালার মাপ অনুসারে তার ঘুষের মত্রাও ওঠা নামা করে| ১ থেকে ৬ তলা ভবনের প্ল্যান পাস করতে তাকে ঘুষ দিতে হয় ১০ লাখ টাকা| ৬ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবনের ঘুষ দিতে হয় ২০ লাখ টাকা| তার উর্ধ্বে ২০ তলা ভবন পর্যন্ত প্ল্যান পাস করতে দিতে হয় ৪০-৫০ লাখ টাকা| এটা অবিশ্বাস হলেও সত্য| বর্তমান রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু কে ম্যানেজ করে তিনি এই অবৈধ কর্মকান্ড করে আসছেন| ঢাকা শহর সহ আশ পাশের সাভার আশুলিয়া কেরানীগঞ্জসহ অন্যান্য হাউজিং কোম্পানীর ভবনের ছাড়পত্র তার স্বাক্ষর ছাড়া হয় না| ঢাকা সাভার এলাকার যতগুলো হাউজিং কোম্পানী আছে সবগুলোই নূর-ই খোদার সাথে সম্পর্ক রেখে তারা কাজ করছে| বছরে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নূর-ই খোদা| তার নানা অপকর্ম একাধিক পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন হওয়ার পরও চেয়ারম্যানের আর্শিবাদে তিনি এত বড় বড় অপকর্ম করতে সাহস পেয়েছেন| সূত্র জানায় এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নূর-ই খোদার ঢাকা উত্তরা এলাকায় রয়েছে ৮ তলা বিশিস্ট ৬ ইউনিটের একটি বিলাশবহুল ফ্ল্যাট বাড়ী রয়েছে| যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকার উপড়ে| ঢাকা জেলা সাভার আশুলিয়ায় এলাকায় রয়েছে শত শত বিঘা জমি| কমপক্ষে ২০টি ফ্ল্যাট ১৫টি, প্লোট এছাড়াও স্ত্রী সন্তানের নামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি| গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং ধানমন্ডি হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা জাবেদ শেখ দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন|
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ নূরু-ই খোদার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু তার অপরাধগুলো আমলে আনছেন না| রহস্যজনক কারণে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কোন না কোন ভাবে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তিনি দাপটের সাথে দুর্নীতি করেছেন|
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, নগর পরিকল্পনাবিদ নূর-ই খোদার সম্পদের পাহাড় রয়েছে| রাইস মিল, বাড়ি গাড়ী, প্লট, দোকানসহ শত শত কোটি টাকার মালিক|
অফিসের আরেক কর্মকর্তা জানান, নূর-ই খোদা একটি সিন্ডিকেট গড়ে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছেন ঘুষ বাণিজ্য| ফাইল আটকে রেখে নকশার অনুমোদন না দিয়ে ঘুষের দর কষাকষি করে থাকেন| হাউজিং কোম্পানীগুলোর থেকে নকশা অনুমোদনের নামে প্রতিমাসে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। রাজউকে তাকে খলিফা নামেই চিনেন।
রাজউকের আরো কর্মকর্তা জানান, রাজউকের কয়েকজন দুর্নীতিবাজদের কারণে গোটা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে| যারা বড় বড় দুর্নীতিকরে কোটি হাতিয়ে নিচ্ছেন, তাদের অন্যতম নূর-ই খোদা। তিনি ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেভাবে সুবিধা নিয়েছেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও তিনি একইভাবে সুবিধা ভোগ করতেছেন। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কাছে কোন রাজনৈতিক দল নেই| তিনি যেভাবে পারছেন, সেভাবেই লুটেপুটে খাচ্ছেন|
মন্তব্য করুন