প্রকাশিত: ৫ ঘন্টা আগে, ০১:০৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষকের পিটুনিতে প্রস্রাব করে দিল শিশু শিক্ষার্থী, স্কুলে যেতে অনীহা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকের মারধরের শিকার হয়ে ভয় ও আতঙ্কে শ্রেণিকক্ষেই প্রস্রাব করে দিয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের ভয়ে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে শিশুটি।
গত বুধবার (১৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ হাট এলাকার ওয়ান্ডার কিডস কেজি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আলিফ মিয়া (৮) ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে শিবালয় উপজেলার তারাইল গ্রামের শাহীন মিয়ার ছেলে। বাবা প্রবাসে থাকায় বর্তমানে নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে।
এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও শিশুটির চাচাতো নানা খবির উদ্দিন মুন্সীর বাধার মুখে পড়েন সাংবাদিকরা। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কথা বলে একটি দোকানে নিয়ে সাটার বন্ধ করে হামলার চেষ্টাও করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, আলিফের সঙ্গে তার এক সহপাঠীর ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সহপাঠীটি আলিফের নাকে আঘাত করলে আলিফ পেন্সিল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে ওই শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়। ঘটনার পর বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ প্রথমে আলিফকে নিজের কক্ষে নিয়ে কয়েকটি থাপ্পড় দিয়ে শাসন করেন। পরে তিনি শ্রেণিকক্ষে গিয়ে বেত দিয়ে পিটিয়ে আলিফের পিঠ ও হাতে আঘাত করেন। মারধরের সময় আতঙ্কিত হয়ে আলিফ শ্রেণিকক্ষেই প্রস্রাব করে দেয়। পরে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
শিশুটির মা তনিমা আক্তার বিথী বলেন, “আমার ছেলে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে পুরো ঘটনা জানায়। পরদিন স্কুলে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে শিক্ষক কোনো দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো আমার ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। শিক্ষকরা শাসন করবেন, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমনভাবে মারধর করবেন যাতে একটি শিশু স্কুলে যেতে ভয় পায় এবং প্রস্রাব করে দেয়, সেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি গোপনে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তিনি তাতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, “আলিফ একটু বেশি দুষ্টু প্রকৃতির। তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। সেদিন সে আরেক শিক্ষার্থীকে পেন্সিল দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছিল। রাগের মাথায় শাসন করতে গিয়ে হয়তো একটি আঘাত বেশি জোরে লেগে গেছে। যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন তো আর তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।”
এ ঘটনায় এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন