প্রকাশিত: ৮ ঘন্টা আগে, ১০:২৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

বাড্ডার ফর্টিস রিসোর্টে বসেছিল ঢাকা কলেজের এইচএসসি ’৯৬ ব্যাচের ‘সামার ফেস্ট’

৩০ বছরের বন্ধুত্ব— খেলাধুলা, আড্ডা আর স্মৃতিচারণায় মেতেছিলেন শতাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থী

বিশেষ প্রতিবেদক
দিনটি ছিল গত ১৯ জুন, শুক্রবার। ঢাকার বাড্ডার ফর্টিস ডাউনটাউন রিসোর্টে দুপুরের পর থেকেই জড়ো হচ্ছিলেন একদল মধ্যবয়সী মানুষ। কারও চুলে পাক ধরেছে, কারও চশমার ফ্রেমটা চওড়া হয়েছে, অবয়বে এসেছে গাম্ভীর্য। কিন্তু রিসোর্টের মূল ফটক গলে ভেতরে পা রাখতেই যেন ম্যাজিকের মতো উধাও হয়ে গেল সব প্রৌঢ়ত্ব! মুহূর্তেই সবাই ফিরে গেলেন ১৯৯৬ সালের চেনা মিরপুর রোডের ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে। ৩০ বছরের পুরোনো বন্ধুত্বের সেই টান আর নস্টালজিয়াকে সঙ্গী করে এদিন বসেছিল ঢাকা কলেজ এইচএসসি ’৯৬ ব্যাচের মিলনমেলা—‘সামার ফেস্ট-২০২৬’।
‘ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি ’৯৬’-এর উদ্যোগে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রস্তুতিতে এই আয়োজন করা হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যস্ততা ঠেলে ছুটে এসেছিলেন শতাধিক সহপাঠী। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো রিসোর্ট প্রাঙ্গণ যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো ঢাকা কলেজে।

মাঠের লড়াই ও জলকেলি
দুপুর তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এই উৎসবের পুরোটা সময়ই ছিল আনন্দমুখর। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মাঠ কাঁপান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবির—আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থক বন্ধুরা। বল পায়ে মাঠের লড়াই আর গ্যালারির তুমুল উন্মাদনা শেষে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। তবে মাঠের খেলায় কেউ না জিতলেও, দিনশেষে জয় হয়েছে বন্ধুদের সৌহার্দ্যের।
খেলাধুলার পর গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে টেবিলজুড়ে হাজির করা হয় জ্যৈষ্ঠের ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসুমী ফল উৎসব’। আম, জাম আর লিচুর রসালো স্বাদে মুখরিত হওয়ার পর বন্ধুরা মেতে ওঠেন সুইমিংপুলের শীতল জলে। সাঁতার আর জলকেলির সেই চঞ্চল মুহূর্তগুলো যেন সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শৈশব-কৈশোরের সেই দুরন্ত দিনগুলোয়।

সুরের ছোঁয়া ও রাজকীয় নৈশভোজ
সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে শুরু হয় উৎসবের মূল আকর্ষণ—সাংস্কৃতিক আড্ডা ও স্মৃতিচারণ। পেশাদার শিল্পীদের পাশাপাশি মঞ্চে সুরের জাদু ছড়ান ঢাকা কলেজেরই কৃতি বন্ধুরা। পুরোনো দিনের জনপ্রিয় সব গান গেয়ে পুরো অনুষ্ঠানস্থল মাতিয়ে রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের পরিচালক মহব্বত হোসাইন, মজনু, অভিজিত, প্রকৌশলী মনজুর আলম ও টেক্সটাইল ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান। সবশেষে এক রাজকীয় বুফে ডিনারের মাধ্যমে পর্দা নামে এই আনন্দঘন উৎসবের।

এক মঞ্চে একঝাঁক গুণীজন
কর্মজীবনে বন্ধুদের অনেকেই আজ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, সফল উদ্যোক্তা ও জ্যেষ্ঠ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের এই আড্ডায় এক কাতারে দেখা যায়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
 * *মাসুদ রানা* (পরিচালক-প্রশাসন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তর)
 * *তোফাজ্জল হোসেন সাগর* (উপসচিব, ভূমি মন্ত্রণালয়)
 * *কর্নেল তৌহিদুজ্জামান জনসন* (আর্মি হেডকোয়ার্টার্স)
 * *কর্নেল আব্দুল মাবুদ শান্ত* (পরিচালক, বিকেএসপি)
 * *মহিবুল ইসলাম খান* (এডিশনাল ডিআইজি, রংপুর রেঞ্জ)
 * *খোরশেদ আলম আকাশ* (নির্বাহী প্রযোজক, নিউজ-বিটিভি)
 * *খোরশেদ আলম সীমান্ত* (সিনিয়র সাংবাদিক)
 * *মহব্বত হোসাইন* (পরিচালক, বাংলাদেশ চা বোর্ড)

নেপথ্যের কারিগর
খুব অল্প সময়ের নোটিশে এত বড় একটি আয়োজন সফল করার পেছনে মূল অবদান রেখেছেন ঢাকা কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশন এইচএসসি '৯৬-এর নবনির্বাচিত সভাপতি ডা. মো. আশরাফুল হাসান মানিক এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদ আলম তুলিত। এ ছাড়া দিনরাত পরিশ্রম করে উৎসবটি সফল করেছেন সামার ফেস্টের আহ্বায়ক রায়হান আজাদ টিটো, সদস্য সচিব মহব্বত হোসাইন এবং সমন্বয়কারী প্রকৌশলী আহসানউজ্জামান দুলাল ও প্রকৌশলী সুজাউদ্দিন সুজন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন বিদায়ের ঘণ্টা বাজল, তখন সবার চোখেমুখেই ছিল একধরনের উদাসীনতা। আবার কবে দেখা হবে, সেই আকুলতা আর আগামীতে আরও বড় পরিসরে মিলিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় ৩০ বছরের পুরোনো বন্ধুদের এই পুনর্মিলন।

মন্তব্য করুন